Tuesday, January 12, 2021

আমাদের আর সাহাবায়ে রাসূলুল্লাহদের মাঝে পার্থক্য কি জানেন?

আমাদের আর সাহাবায়ে রাসূলুল্লাহদের মাঝে পার্থক্য কি জানেন?

তারা নিজেদের আত্মশুদ্ধির জন্য রাসূল (সঃ)-কে প্রশ্ন করতেন।

আর আমরা অন্যের আত্মশুদ্ধির জন্য আলেমসমাজকে প্রশ্ন করি।

কে আসল সেলিব্রেটি?

দুনিয়াতে নাঁচ গান করে এমনও অনেক তথাকথিত সেলিব্রেটি অনেক নাম-জশ কামিয়েছে, অনেক দুনিয়া কাপিয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর পর এখন কয়জন কে দেখেন তাদের নাম জপতে..?

কিন্তু দুনিয়াতে এখনো ইবনে ক্যাইয়ুম রহঃ, ইবনে তাহমিয়্যা রহঃ প্রমূখদের নাম কোটি কোটি মানুষের মুখে। অথচ তাদের কাউকে হয়তো মানুষ দেখেও নি।

আসল সফলতা খ্যাতি তো সেটাই যেটা মৃত্যুর পর মানুষ অর্জন করে সারাদুনিয়ার মানুষের ভালবাসার মাধ্যমে, স্মৃতির মাধ্যমে আমরণ।

এখন সিদ্ধান্ত আপনার আপনি কিভাবে দুনিয়াতে নাম কামাতে চান? বেঁচে থেকে অনেক নাম জস , নাকি মৃত্যুর পরেও আমরণ নাম জস? তাহলে আজ থেকেই আল্লাহ্ কে খুশি করার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করুন। আল্লাহ্ নিজ রহমত থেকে দুনিয়া ধ্বংসের আগ পর্যন্ত এই দুনিয়ায় আপনার সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

Saturday, January 2, 2021

একটু গভীর ভাবে চিন্তা করুন।

একটু গভীরভাবে চিন্তাকরুন-

আপনি বিধ্বস্ত হয়ে বসে তাকিয়ে আছেন আকাশপানে আর চোখ বেয়ে নামছে অশ্রু তারপরঃ এই বাংলাদেশ কতবড়, তার চেয়ে বড় এশিয়া মহাদেশ, তার থেকেও কতই না বড় পৃথিবী। 

পৃথিবী থেকে বড় সূর্য আর এমন  জিলিওন সূর্য দিয়ে গ্যালাক্সি আবার এমন জিলিওন গ্যালাক্সি তে একটা ইউনিভার্স আর এমন জিলিওন বা তার থেকেও বেশি ইউনিভার্স দিয়ে আমাদের হয়তো প্রথম আসমান, আর এমন ৭টা আসমান এর উপর থেকে একজন যিনি সৃষ্টি করেছেন এই সব কিছু, তিনি মহান সত্ত্বা মনযোগ দিয়ে শুনছেন আপনার কথা দেখছেন আপনার চোখের পানি আর বলছেন তার ফেরেস্তাদের, আমার এই বান্দার কষ্ট আমি আল্লাহ মানতে পারছি না দিয়ে দাও ও যা চায় তা এবং তার থেকেও বেশি, জেনো আমার বান্দা খুশি হয়ে যায়। "সুবহান-আল্লাহ্" 

একটু কল্পনা করতে পারবেন?  না এসব কল্পনা করা যায় না। এগুলো বোঝানোর ভাষা নেই। তিনি ই তো রব্ব্বে কারিম আহ! কি মহান ই না তার মমতা। চোখ ভিজে শিক্ত হয়ে ওঠে তাকে নিয়ে ভাবলে।

©মুহাম্মাদ হা-মিমুল ইসলাম

মানুষের জীবনের ৩টি কাল।

মানুষের জীবনের কাল তিনটি গতকাল, আজ ও আগামীকাল 

গতকাল চলে গেছে যেটা আর ফিরে আসবে না, আগামীকাল কি আছে তা জানি না, তাই সময় শুধু আজ। আজ ইবাদত করে আগামীকাল উজ্জ্বল করুন ও গতকালের কালো অতীত মুছে ফেলুন।

[বিঃদ্র- এক শাইখ থেকে ধারণা টা নেওয়া ]

গান ও শির্ক সম্পর্কে কিছু তথ্য।

গান ও শির্কঃ

দুনিয়াতে মানুষ সবচেয়ে বেশি যেটার প্রতি নেশাগ্রস্ত সেটা হচ্ছে এই গান। গান হারাম এটা আমরা জানি কিন্তু, কথা বাড়িয়ে সেদিকে আর যাবো না। আচ্ছা কখনো কি আমরা এটা গভীরভাবে চিন্তা করেছি যে, এই গান আমাদের দ্বীন ইসলাম থেকে বের করে মুরতাদও করে দিতে পারে?

কথাটা বুঝে আসলো না হয়তো তাই না....? তাহলে চলুন একটু বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা যাকঃ

আমরা যখন গান শুনি তখন এই গানের মধ্যে নানাবিধ ম্যাসেজ আমাদের সামনে পেশ করা হয়। হয়তো আমরা কেউ ধরতে পারি হয়তো পারি না। কিন্তু আমাদের সাবমাইন্ড ঠিক-ই এটাকে নিজের মধ্যে নিয়ে নেয় এবং পরে সেটা সামনে আস্তে আস্তে তুলে ধরে। আমরা একটা গান যখন একের অধিক শুনি তখন সেটা আমাদের মনের মধ্যে গেথে যায় এবং পরবর্তীতে আমরা আমাদের চেতন-অবচেতন দুই অবস্থাতেই সেই গানের কলি আউড়াতে থাকি।

এখন যখন গান গুলি এমন হয় " জান্নাত সাজায়ি মেনু তেরে লিয়ে, ছোড় দি খুদাই মেনু তেরে লিয়ে "

অর্থ- জান্নাত সাজিয়েছি আমি তোর জন্য, খোদাকে আমি ছেড়েছি তোর জন্য। (নাউজুবিল্লাহ)  [শুধু একটা উদাহরণ দিলাম এমন কোটি কোটি গান আছে]

যখন এই গান শুনে নিজের মুখে আউড়াতে থাকি তখন এর পরিনাম কি দাড়ায়?

আমরা শির্কের কথা শুনছি ও সেই কুফরি নিজের মুখে উচ্চারণ করে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাচ্ছি।

চিন্তা করুন আজ রাতে আপনি এমন একটি গান গাইতে গাইতে ঘুমাতে গেলেন অথচ আপনার আর সকাল টা দেখা হলো না। কি হবে তখন কবরে? আপনি নিজেও বুঝলেন না যে আপনি অমুসলিম হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তাই আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা হৃদয়ে স্থাপন করে চলুন গান আজ থেকেই বাদ দেই এবং কোর\"আন কে আপন মনে ধারণ করি।

মুহাম্মদ হা-মিমুল ইসলাম।

এ কেমন মূর্খ জাতি? যারা নিজের মৃত্যুর কাছে যাওয়া নিয়ে উৎসব করে।

আমরা এ কেমন মূর্খ জাতি? 

যারা নিজের মৃত্যুর কাছে আগাচ্ছে সেটা নিয়ে ইঞ্জয় করে।

আমাকে বলুন যদি আপনাকে ডাক্তার বলে আপনার হাতে মাত্র 2বছর সময় আছে , তাহলে কি আপনার কাছে নতুন বছর আসা কোনো খুশির বিষয় হতো নাকি কষ্টের?

তাহলে এই নতুন বছরের ক্ষেত্রে এটা কেনো ভাবছেন না যে আপনি মৃত্যুর কাছে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছেন? তাহলে কোন বিবেক নিয়ে নিজের মৃত্যুর কাছে যাওয়া নিয়ে হাসিতামাসা করছেন?

ওয়াল্লাহি এই হাসিতামাসা আপনাকে এমন ভাবে আফসোস করাবে যে আপনি নিজের হাত কামড়ে ছিড়ে ফেলবেন।

আল্লাহ বোঝার তৌফীক দান করুন।

Wednesday, December 30, 2020

দুনিয়াতে কামিয়াবি তো কাফিররাই তাহলে ঈমান রেখে লাভ কি?

আসসালামু আলাইকুম। 

প্রতিটি ভালোকাজ এর প্রতিফল হিসেবে জান্নাত পাওয়ার মূল শর্ত হচ্ছে ঈমান আনা। কারণ ঈমান ব্যতীত ভালোকাজ করা ও জান্নাতের আশা করাটা ঠিক, টিকিট ছাড়া বিমানে ওঠার চেষ্টা করার সমতুল্য। তাই আল্লাহ তা\"আলা পবিত্র কোর\"আনের বহু জায়গায় ভালো কাজের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে শুরুতেই বার বার বলেছেন "যারা ঈমান আনে" নিন্মে একটি আয়াতের উদাহরণ দেওয়া হলোঃ

সূরা বাইয়্যিনাহ (البينة), আয়াত: ৭
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ ٱلْبَرِيَّةِ
অর্থঃ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।

এখন মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে যারা কাফির-মুশরিক তারা যেই ভালো কাজ গুলা করছেন তাহলে তার উপহার কি?

নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও সর্বোত্তম বিচারক। তিনি কারো সাথেই বে-ইনসাফি করেন না তিনি অনু পরিমান ভালোকাজ করলেও তার পুরুষ্কার দিবেন আবার, অনু পরিমান খারাপ কাজেরও। তবে একটা বিষয় বুঝতে হবে আমরা মুসলিম আমাদের একমাত্র স্বপ্ন হওয়া উচিৎ জান্নাত। আর আল্লাহ তা"আলা বলেছেন নিশ্চয়ই এটাই সর্বশেষ ও সর্বোত্তম পুরুষ্কার তারা এখানে থাকবে চিরকাল। 

এই তারা-ই হচ্ছেন যারা ঈমান এনে ভালো কাজ করে ও অন্যকে ভালো কাজের উপদেশ দেয়। আর এর জন্যই আমরা দেখতে পাই প্রতিটি নবী-রাসূলগন-ই সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছেন কিন্তু তারা-ই ঈমান আনার পর সবচেয়ে বেশি ভালোকাজ ও উপদেশ দিয়ে গেছেন। আর অপরদিকে যদি কেউ ঈমান এনেও দুনিয়াতে সুখ পায় তাহলে এটা আল্লাহর তরফ হতে এক্সট্রা নেয়ামত যেমন দাউদ আঃ, সুলেমান আঃ, জুলকার নাইন রহঃ প্রমুখ।

আমরা যদি লক্ষ করি এখন দুনিয়াতে সবচেয়ে বড়-নামিদামি লোকজন কারা? তাহলে ৮০%-ই বের হয়ে আসবে কাফির-মুশরিকদের নাম। আর এটাই তাদের পুরুষ্কার। তাদের ভালোকাজ গুলির পুরুষ্কার এই দুনিয়ায় নাম-খ্যাতি ধন-সম্পদ ইত্যাদি। যেনো তারা বিচার দিবসে আল্লাহকে প্রশ্ন না করতে পারে যে, "হে আল্লাহ! আমরা যে এতো মানবসেবা করলাম আমাদের তো কিছুই দিলে না।" যার জন্য আল্লাহ তাদের এই দুনিয়া দিয়ে দিছেন যেটা আল্লাহর কাছে তেমনটাই মূল্যহীন যেমন মানুষের কাছে একটি মৃত মাছির মূল্য। তাই আল্লাহ তাদের এই দুনিয়া দিয়েছেন ও আমাদের সাথে ওয়াদা করেছেন জান্নাতের তবে এর জন্য দরকার একটু কষ্ট ও ধৈর্য। 
এর জন্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দুনিয়া মুমিনের জেলখানা এবং কাফেরের বেহেশতখানা। [৩৪৪৫]
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪১১৩।

আর কাফিরদের দুনিয়াতে আরামদায়ক বিচরণ-ই প্রমান করে এটাই তাদের ভালোকাজের পুরুষ্কার। যেখানে ঈমান এনে এই একই ভালোকাজ এর জন্য রয়েছে জান্নাত এর মতো শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত। তাই প্রতিটি ভালোকাজ করার আগে নিয়ত জেনো হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির সেদিকে খেয়াল করতে হবে।

জাজা-কাল্লাহ্ খইরান।

লিখেছেনঃ মুহাম্মদ হা-মিমুল ইসলাম।