আসসালামু আলাইকুম।
প্রতিটি ভালোকাজ এর প্রতিফল হিসেবে জান্নাত পাওয়ার মূল শর্ত হচ্ছে ঈমান আনা। কারণ ঈমান ব্যতীত ভালোকাজ করা ও জান্নাতের আশা করাটা ঠিক, টিকিট ছাড়া বিমানে ওঠার চেষ্টা করার সমতুল্য। তাই আল্লাহ তা\"আলা পবিত্র কোর\"আনের বহু জায়গায় ভালো কাজের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে শুরুতেই বার বার বলেছেন "যারা ঈমান আনে" নিন্মে একটি আয়াতের উদাহরণ দেওয়া হলোঃ
সূরা বাইয়্যিনাহ (البينة), আয়াত: ৭
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ ٱلْبَرِيَّةِ
অর্থঃ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।
এখন মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে যারা কাফির-মুশরিক তারা যেই ভালো কাজ গুলা করছেন তাহলে তার উপহার কি?
নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও সর্বোত্তম বিচারক। তিনি কারো সাথেই বে-ইনসাফি করেন না তিনি অনু পরিমান ভালোকাজ করলেও তার পুরুষ্কার দিবেন আবার, অনু পরিমান খারাপ কাজেরও। তবে একটা বিষয় বুঝতে হবে আমরা মুসলিম আমাদের একমাত্র স্বপ্ন হওয়া উচিৎ জান্নাত। আর আল্লাহ তা"আলা বলেছেন নিশ্চয়ই এটাই সর্বশেষ ও সর্বোত্তম পুরুষ্কার তারা এখানে থাকবে চিরকাল।
এই তারা-ই হচ্ছেন যারা ঈমান এনে ভালো কাজ করে ও অন্যকে ভালো কাজের উপদেশ দেয়। আর এর জন্যই আমরা দেখতে পাই প্রতিটি নবী-রাসূলগন-ই সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছেন কিন্তু তারা-ই ঈমান আনার পর সবচেয়ে বেশি ভালোকাজ ও উপদেশ দিয়ে গেছেন। আর অপরদিকে যদি কেউ ঈমান এনেও দুনিয়াতে সুখ পায় তাহলে এটা আল্লাহর তরফ হতে এক্সট্রা নেয়ামত যেমন দাউদ আঃ, সুলেমান আঃ, জুলকার নাইন রহঃ প্রমুখ।
আমরা যদি লক্ষ করি এখন দুনিয়াতে সবচেয়ে বড়-নামিদামি লোকজন কারা? তাহলে ৮০%-ই বের হয়ে আসবে কাফির-মুশরিকদের নাম। আর এটাই তাদের পুরুষ্কার। তাদের ভালোকাজ গুলির পুরুষ্কার এই দুনিয়ায় নাম-খ্যাতি ধন-সম্পদ ইত্যাদি। যেনো তারা বিচার দিবসে আল্লাহকে প্রশ্ন না করতে পারে যে, "হে আল্লাহ! আমরা যে এতো মানবসেবা করলাম আমাদের তো কিছুই দিলে না।" যার জন্য আল্লাহ তাদের এই দুনিয়া দিয়ে দিছেন যেটা আল্লাহর কাছে তেমনটাই মূল্যহীন যেমন মানুষের কাছে একটি মৃত মাছির মূল্য। তাই আল্লাহ তাদের এই দুনিয়া দিয়েছেন ও আমাদের সাথে ওয়াদা করেছেন জান্নাতের তবে এর জন্য দরকার একটু কষ্ট ও ধৈর্য।
এর জন্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দুনিয়া মুমিনের জেলখানা এবং কাফেরের বেহেশতখানা। [৩৪৪৫]
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪১১৩।
আর কাফিরদের দুনিয়াতে আরামদায়ক বিচরণ-ই প্রমান করে এটাই তাদের ভালোকাজের পুরুষ্কার। যেখানে ঈমান এনে এই একই ভালোকাজ এর জন্য রয়েছে জান্নাত এর মতো শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত। তাই প্রতিটি ভালোকাজ করার আগে নিয়ত জেনো হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির সেদিকে খেয়াল করতে হবে।
জাজা-কাল্লাহ্ খইরান।
লিখেছেনঃ মুহাম্মদ হা-মিমুল ইসলাম।
No comments:
Post a Comment