Saturday, January 2, 2021

গান ও শির্ক সম্পর্কে কিছু তথ্য।

গান ও শির্কঃ

দুনিয়াতে মানুষ সবচেয়ে বেশি যেটার প্রতি নেশাগ্রস্ত সেটা হচ্ছে এই গান। গান হারাম এটা আমরা জানি কিন্তু, কথা বাড়িয়ে সেদিকে আর যাবো না। আচ্ছা কখনো কি আমরা এটা গভীরভাবে চিন্তা করেছি যে, এই গান আমাদের দ্বীন ইসলাম থেকে বের করে মুরতাদও করে দিতে পারে?

কথাটা বুঝে আসলো না হয়তো তাই না....? তাহলে চলুন একটু বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা যাকঃ

আমরা যখন গান শুনি তখন এই গানের মধ্যে নানাবিধ ম্যাসেজ আমাদের সামনে পেশ করা হয়। হয়তো আমরা কেউ ধরতে পারি হয়তো পারি না। কিন্তু আমাদের সাবমাইন্ড ঠিক-ই এটাকে নিজের মধ্যে নিয়ে নেয় এবং পরে সেটা সামনে আস্তে আস্তে তুলে ধরে। আমরা একটা গান যখন একের অধিক শুনি তখন সেটা আমাদের মনের মধ্যে গেথে যায় এবং পরবর্তীতে আমরা আমাদের চেতন-অবচেতন দুই অবস্থাতেই সেই গানের কলি আউড়াতে থাকি।

এখন যখন গান গুলি এমন হয় " জান্নাত সাজায়ি মেনু তেরে লিয়ে, ছোড় দি খুদাই মেনু তেরে লিয়ে "

অর্থ- জান্নাত সাজিয়েছি আমি তোর জন্য, খোদাকে আমি ছেড়েছি তোর জন্য। (নাউজুবিল্লাহ)  [শুধু একটা উদাহরণ দিলাম এমন কোটি কোটি গান আছে]

যখন এই গান শুনে নিজের মুখে আউড়াতে থাকি তখন এর পরিনাম কি দাড়ায়?

আমরা শির্কের কথা শুনছি ও সেই কুফরি নিজের মুখে উচ্চারণ করে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাচ্ছি।

চিন্তা করুন আজ রাতে আপনি এমন একটি গান গাইতে গাইতে ঘুমাতে গেলেন অথচ আপনার আর সকাল টা দেখা হলো না। কি হবে তখন কবরে? আপনি নিজেও বুঝলেন না যে আপনি অমুসলিম হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তাই আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা হৃদয়ে স্থাপন করে চলুন গান আজ থেকেই বাদ দেই এবং কোর\"আন কে আপন মনে ধারণ করি।

মুহাম্মদ হা-মিমুল ইসলাম।

এ কেমন মূর্খ জাতি? যারা নিজের মৃত্যুর কাছে যাওয়া নিয়ে উৎসব করে।

আমরা এ কেমন মূর্খ জাতি? 

যারা নিজের মৃত্যুর কাছে আগাচ্ছে সেটা নিয়ে ইঞ্জয় করে।

আমাকে বলুন যদি আপনাকে ডাক্তার বলে আপনার হাতে মাত্র 2বছর সময় আছে , তাহলে কি আপনার কাছে নতুন বছর আসা কোনো খুশির বিষয় হতো নাকি কষ্টের?

তাহলে এই নতুন বছরের ক্ষেত্রে এটা কেনো ভাবছেন না যে আপনি মৃত্যুর কাছে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছেন? তাহলে কোন বিবেক নিয়ে নিজের মৃত্যুর কাছে যাওয়া নিয়ে হাসিতামাসা করছেন?

ওয়াল্লাহি এই হাসিতামাসা আপনাকে এমন ভাবে আফসোস করাবে যে আপনি নিজের হাত কামড়ে ছিড়ে ফেলবেন।

আল্লাহ বোঝার তৌফীক দান করুন।

Wednesday, December 30, 2020

দুনিয়াতে কামিয়াবি তো কাফিররাই তাহলে ঈমান রেখে লাভ কি?

আসসালামু আলাইকুম। 

প্রতিটি ভালোকাজ এর প্রতিফল হিসেবে জান্নাত পাওয়ার মূল শর্ত হচ্ছে ঈমান আনা। কারণ ঈমান ব্যতীত ভালোকাজ করা ও জান্নাতের আশা করাটা ঠিক, টিকিট ছাড়া বিমানে ওঠার চেষ্টা করার সমতুল্য। তাই আল্লাহ তা\"আলা পবিত্র কোর\"আনের বহু জায়গায় ভালো কাজের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে শুরুতেই বার বার বলেছেন "যারা ঈমান আনে" নিন্মে একটি আয়াতের উদাহরণ দেওয়া হলোঃ

সূরা বাইয়্যিনাহ (البينة), আয়াত: ৭
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ ٱلْبَرِيَّةِ
অর্থঃ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।

এখন মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে যারা কাফির-মুশরিক তারা যেই ভালো কাজ গুলা করছেন তাহলে তার উপহার কি?

নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও সর্বোত্তম বিচারক। তিনি কারো সাথেই বে-ইনসাফি করেন না তিনি অনু পরিমান ভালোকাজ করলেও তার পুরুষ্কার দিবেন আবার, অনু পরিমান খারাপ কাজেরও। তবে একটা বিষয় বুঝতে হবে আমরা মুসলিম আমাদের একমাত্র স্বপ্ন হওয়া উচিৎ জান্নাত। আর আল্লাহ তা"আলা বলেছেন নিশ্চয়ই এটাই সর্বশেষ ও সর্বোত্তম পুরুষ্কার তারা এখানে থাকবে চিরকাল। 

এই তারা-ই হচ্ছেন যারা ঈমান এনে ভালো কাজ করে ও অন্যকে ভালো কাজের উপদেশ দেয়। আর এর জন্যই আমরা দেখতে পাই প্রতিটি নবী-রাসূলগন-ই সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছেন কিন্তু তারা-ই ঈমান আনার পর সবচেয়ে বেশি ভালোকাজ ও উপদেশ দিয়ে গেছেন। আর অপরদিকে যদি কেউ ঈমান এনেও দুনিয়াতে সুখ পায় তাহলে এটা আল্লাহর তরফ হতে এক্সট্রা নেয়ামত যেমন দাউদ আঃ, সুলেমান আঃ, জুলকার নাইন রহঃ প্রমুখ।

আমরা যদি লক্ষ করি এখন দুনিয়াতে সবচেয়ে বড়-নামিদামি লোকজন কারা? তাহলে ৮০%-ই বের হয়ে আসবে কাফির-মুশরিকদের নাম। আর এটাই তাদের পুরুষ্কার। তাদের ভালোকাজ গুলির পুরুষ্কার এই দুনিয়ায় নাম-খ্যাতি ধন-সম্পদ ইত্যাদি। যেনো তারা বিচার দিবসে আল্লাহকে প্রশ্ন না করতে পারে যে, "হে আল্লাহ! আমরা যে এতো মানবসেবা করলাম আমাদের তো কিছুই দিলে না।" যার জন্য আল্লাহ তাদের এই দুনিয়া দিয়ে দিছেন যেটা আল্লাহর কাছে তেমনটাই মূল্যহীন যেমন মানুষের কাছে একটি মৃত মাছির মূল্য। তাই আল্লাহ তাদের এই দুনিয়া দিয়েছেন ও আমাদের সাথে ওয়াদা করেছেন জান্নাতের তবে এর জন্য দরকার একটু কষ্ট ও ধৈর্য। 
এর জন্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দুনিয়া মুমিনের জেলখানা এবং কাফেরের বেহেশতখানা। [৩৪৪৫]
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪১১৩।

আর কাফিরদের দুনিয়াতে আরামদায়ক বিচরণ-ই প্রমান করে এটাই তাদের ভালোকাজের পুরুষ্কার। যেখানে ঈমান এনে এই একই ভালোকাজ এর জন্য রয়েছে জান্নাত এর মতো শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত। তাই প্রতিটি ভালোকাজ করার আগে নিয়ত জেনো হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির সেদিকে খেয়াল করতে হবে।

জাজা-কাল্লাহ্ খইরান।

লিখেছেনঃ মুহাম্মদ হা-মিমুল ইসলাম।

Sunday, March 10, 2019

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ

মানুষের সামনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সুনাম করলে অহংকার সৃষ্টি হয়। তাই মানুষের সামনে তার ভুলত্রুটি গুলি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন জেনো সে শুধরে নিতে পারে। মানুষের পিছে তার ভুলত্রুটি ধরলে গীবত হয় যার জন্য আপনি জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে পারেন। তাই তার অনুপস্থিতিতে তার সুনাম করুন। উপদেশ
রাসূল_সল্লাল্লাহু_আলাইহি_ওয়াসাল্লামের_আদর্শ।

কিসের জন্য অপেক্ষা...?

চিন্তা করুন তো আমাদের কাছে কার প্রাধান্য বেশি? মহান স্বত্তা আল্লাহর নাকি তার সৃষ্টি সামান্য একজন ডাক্তারের? যদি বলেন এটা কেনো বললাম তাহলে শুনুনঃ- যখন ডাক্তার আমাদের বলে আমাদের হাতে আর ৩মাস সময় আছে (উদাহরণ স্বরূপ)। তখন আমরা জেনো হুশ ফিরে পাই বাস্তবতা টা মেনে নিয়ে নিজেদের মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকি। সেই অনুযায়ী নিজেকে চালনা করি। কিন্তু, এই একই কথাটা যখন আল্লাহ রব্বুল আলামীন তার পবিত্র কোর'আনুল কারিমে আমাদের বার বার স্বরণ করিয়ে দেন তখন আমরা সেটাকে পাত্তাই দেই না। তখনও আমরা আমাদের হুশ আনি না। আমরা আমাদের বিবেক কাজে লাগাই না। ভেবে দেখুন তো এই বাস্তবতা টা কতটুকু গ্রহনযোগ্য আমাদের জন্য? "প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।"- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা।

Sunday, February 17, 2019

কোনটা আসল ভবিষ্যৎ?

আমরা সব সময় মিথ্যে ভবিষ্যৎ গড়া নিয়ে চিন্তিত যখন সেই ভবিষ্যৎ টা আমাদের জীবনে আসবে কি আসবে না তার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু, আসল সত্য ভবিষ্যৎ যেটা অনিবার্য আসবেই সেটা নিয়ে কখনো ভাবি না। আমরা ভাবি ভবিষ্যতের ব্যাংক ব্যালেন্স,বিয়ে,গাড়ি-বাড়ি এসব নিয়ে যেগুলোর কোনো গ্যারান্টি নেই যে আমি আমার জীবনে এগুলোর দেখা পাবো কি না! কিন্তু যেই মৃত্যু নামের ভবিষ্যৎ টা আমার দরজার কড়া নাড়ছে সেটার ব্যপারে কোনো চিন্তাই নেই এমনকি সেটার জন্য নিজেকে তৈরি ও করছি না পুরন্ত সেটা আমার সামনে দাঁড়িয়ে। যদি কেউ প্রশ্ন করে আমার ভবিষ্যৎ কি? আমার উত্তর একটাই হওয়া উচিৎ সেটা হলো #মৃত্যু!

Tuesday, February 5, 2019

ঈমান ও আকাশের সম্পর্ক।

মানুষের ঈমান হচ্ছে আকাশের ন্যায়। আকাশ যেমন পরিবর্তন হয় কখনো পরিষ্কার কখনো কালো মেঘে ভরা, আবার অঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমে সেই মেঘ কাটিয়ে আবার সচ্ছ আকাশে পরিনত হয়। ঠিক তেমনি আমাদের ঈমানও কখনো পরিষ্কার হয় আবার কখনো তাতে মেঘ জমে যায়। আর এই মেঘ কাটিয়ে পরিষ্কার ঈমান আনতে আমাদেরও বৃষ্টি ঝরানো লাগবে। আর সেই বৃষ্টি হলো আল্লাহর দরবারে আমাদের চোখের পানি। ঈমান দৃঢ় করতে কাঁদুন বেশি বেশি আল্লাহর দরবারে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে প্রিয় শহীদের একফোঁটা রক্ত ও আল্লাহর ভয়ে বান্দার ফেলা একফোঁটা চোখের পানি।