Wednesday, December 30, 2020

দুনিয়াতে কামিয়াবি তো কাফিররাই তাহলে ঈমান রেখে লাভ কি?

আসসালামু আলাইকুম। 

প্রতিটি ভালোকাজ এর প্রতিফল হিসেবে জান্নাত পাওয়ার মূল শর্ত হচ্ছে ঈমান আনা। কারণ ঈমান ব্যতীত ভালোকাজ করা ও জান্নাতের আশা করাটা ঠিক, টিকিট ছাড়া বিমানে ওঠার চেষ্টা করার সমতুল্য। তাই আল্লাহ তা\"আলা পবিত্র কোর\"আনের বহু জায়গায় ভালো কাজের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে শুরুতেই বার বার বলেছেন "যারা ঈমান আনে" নিন্মে একটি আয়াতের উদাহরণ দেওয়া হলোঃ

সূরা বাইয়্যিনাহ (البينة), আয়াত: ৭
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ ٱلْبَرِيَّةِ
অর্থঃ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।

এখন মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে যারা কাফির-মুশরিক তারা যেই ভালো কাজ গুলা করছেন তাহলে তার উপহার কি?

নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও সর্বোত্তম বিচারক। তিনি কারো সাথেই বে-ইনসাফি করেন না তিনি অনু পরিমান ভালোকাজ করলেও তার পুরুষ্কার দিবেন আবার, অনু পরিমান খারাপ কাজেরও। তবে একটা বিষয় বুঝতে হবে আমরা মুসলিম আমাদের একমাত্র স্বপ্ন হওয়া উচিৎ জান্নাত। আর আল্লাহ তা"আলা বলেছেন নিশ্চয়ই এটাই সর্বশেষ ও সর্বোত্তম পুরুষ্কার তারা এখানে থাকবে চিরকাল। 

এই তারা-ই হচ্ছেন যারা ঈমান এনে ভালো কাজ করে ও অন্যকে ভালো কাজের উপদেশ দেয়। আর এর জন্যই আমরা দেখতে পাই প্রতিটি নবী-রাসূলগন-ই সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছেন কিন্তু তারা-ই ঈমান আনার পর সবচেয়ে বেশি ভালোকাজ ও উপদেশ দিয়ে গেছেন। আর অপরদিকে যদি কেউ ঈমান এনেও দুনিয়াতে সুখ পায় তাহলে এটা আল্লাহর তরফ হতে এক্সট্রা নেয়ামত যেমন দাউদ আঃ, সুলেমান আঃ, জুলকার নাইন রহঃ প্রমুখ।

আমরা যদি লক্ষ করি এখন দুনিয়াতে সবচেয়ে বড়-নামিদামি লোকজন কারা? তাহলে ৮০%-ই বের হয়ে আসবে কাফির-মুশরিকদের নাম। আর এটাই তাদের পুরুষ্কার। তাদের ভালোকাজ গুলির পুরুষ্কার এই দুনিয়ায় নাম-খ্যাতি ধন-সম্পদ ইত্যাদি। যেনো তারা বিচার দিবসে আল্লাহকে প্রশ্ন না করতে পারে যে, "হে আল্লাহ! আমরা যে এতো মানবসেবা করলাম আমাদের তো কিছুই দিলে না।" যার জন্য আল্লাহ তাদের এই দুনিয়া দিয়ে দিছেন যেটা আল্লাহর কাছে তেমনটাই মূল্যহীন যেমন মানুষের কাছে একটি মৃত মাছির মূল্য। তাই আল্লাহ তাদের এই দুনিয়া দিয়েছেন ও আমাদের সাথে ওয়াদা করেছেন জান্নাতের তবে এর জন্য দরকার একটু কষ্ট ও ধৈর্য। 
এর জন্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দুনিয়া মুমিনের জেলখানা এবং কাফেরের বেহেশতখানা। [৩৪৪৫]
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪১১৩।

আর কাফিরদের দুনিয়াতে আরামদায়ক বিচরণ-ই প্রমান করে এটাই তাদের ভালোকাজের পুরুষ্কার। যেখানে ঈমান এনে এই একই ভালোকাজ এর জন্য রয়েছে জান্নাত এর মতো শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত। তাই প্রতিটি ভালোকাজ করার আগে নিয়ত জেনো হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির সেদিকে খেয়াল করতে হবে।

জাজা-কাল্লাহ্ খইরান।

লিখেছেনঃ মুহাম্মদ হা-মিমুল ইসলাম।

Sunday, March 10, 2019

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ

মানুষের সামনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সুনাম করলে অহংকার সৃষ্টি হয়। তাই মানুষের সামনে তার ভুলত্রুটি গুলি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন জেনো সে শুধরে নিতে পারে। মানুষের পিছে তার ভুলত্রুটি ধরলে গীবত হয় যার জন্য আপনি জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে পারেন। তাই তার অনুপস্থিতিতে তার সুনাম করুন। উপদেশ
রাসূল_সল্লাল্লাহু_আলাইহি_ওয়াসাল্লামের_আদর্শ।

কিসের জন্য অপেক্ষা...?

চিন্তা করুন তো আমাদের কাছে কার প্রাধান্য বেশি? মহান স্বত্তা আল্লাহর নাকি তার সৃষ্টি সামান্য একজন ডাক্তারের? যদি বলেন এটা কেনো বললাম তাহলে শুনুনঃ- যখন ডাক্তার আমাদের বলে আমাদের হাতে আর ৩মাস সময় আছে (উদাহরণ স্বরূপ)। তখন আমরা জেনো হুশ ফিরে পাই বাস্তবতা টা মেনে নিয়ে নিজেদের মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকি। সেই অনুযায়ী নিজেকে চালনা করি। কিন্তু, এই একই কথাটা যখন আল্লাহ রব্বুল আলামীন তার পবিত্র কোর'আনুল কারিমে আমাদের বার বার স্বরণ করিয়ে দেন তখন আমরা সেটাকে পাত্তাই দেই না। তখনও আমরা আমাদের হুশ আনি না। আমরা আমাদের বিবেক কাজে লাগাই না। ভেবে দেখুন তো এই বাস্তবতা টা কতটুকু গ্রহনযোগ্য আমাদের জন্য? "প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।"- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা।

Sunday, February 17, 2019

কোনটা আসল ভবিষ্যৎ?

আমরা সব সময় মিথ্যে ভবিষ্যৎ গড়া নিয়ে চিন্তিত যখন সেই ভবিষ্যৎ টা আমাদের জীবনে আসবে কি আসবে না তার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু, আসল সত্য ভবিষ্যৎ যেটা অনিবার্য আসবেই সেটা নিয়ে কখনো ভাবি না। আমরা ভাবি ভবিষ্যতের ব্যাংক ব্যালেন্স,বিয়ে,গাড়ি-বাড়ি এসব নিয়ে যেগুলোর কোনো গ্যারান্টি নেই যে আমি আমার জীবনে এগুলোর দেখা পাবো কি না! কিন্তু যেই মৃত্যু নামের ভবিষ্যৎ টা আমার দরজার কড়া নাড়ছে সেটার ব্যপারে কোনো চিন্তাই নেই এমনকি সেটার জন্য নিজেকে তৈরি ও করছি না পুরন্ত সেটা আমার সামনে দাঁড়িয়ে। যদি কেউ প্রশ্ন করে আমার ভবিষ্যৎ কি? আমার উত্তর একটাই হওয়া উচিৎ সেটা হলো #মৃত্যু!

Tuesday, February 5, 2019

ঈমান ও আকাশের সম্পর্ক।

মানুষের ঈমান হচ্ছে আকাশের ন্যায়। আকাশ যেমন পরিবর্তন হয় কখনো পরিষ্কার কখনো কালো মেঘে ভরা, আবার অঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমে সেই মেঘ কাটিয়ে আবার সচ্ছ আকাশে পরিনত হয়। ঠিক তেমনি আমাদের ঈমানও কখনো পরিষ্কার হয় আবার কখনো তাতে মেঘ জমে যায়। আর এই মেঘ কাটিয়ে পরিষ্কার ঈমান আনতে আমাদেরও বৃষ্টি ঝরানো লাগবে। আর সেই বৃষ্টি হলো আল্লাহর দরবারে আমাদের চোখের পানি। ঈমান দৃঢ় করতে কাঁদুন বেশি বেশি আল্লাহর দরবারে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে প্রিয় শহীদের একফোঁটা রক্ত ও আল্লাহর ভয়ে বান্দার ফেলা একফোঁটা চোখের পানি।

Friday, November 2, 2018

বিয়ে কি?

ভালোলাগার মতন একটা কথা- আপনার কাছে একটা পথ আছে যেটার চারপাশে এতোটাই অন্ধকার যে আপনি আলো ছাড়া চলতে পারবেন না। আপনার কাছে একটা মোমবাতি আছে কিন্তু তাতে কোনো আলো নেই। আর হঠাৎ করে আপনি একজন স্বত্ত্বার কথা স্বরন করলেন এবং সাথে সাথে আপনার পায়ের কাছে একটি দেশলাই কাঠি পেলেন এবং সেটা দিয়ে আগুন ধরিয়ে নিয়ে একটু আলোর দেখা পেলেন। তবে এই আলোটাও আপনার জন্য যথেষ্ট নয় এতো দূরের পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য। আবার এটারও আশঙ্কা আছে যে কিছুদূর যেয়ে সেটা নিভেও যেতে পারে। হঠাৎ আপনার একটা পদক্ষেপে আপনার পাশে আরেকটি মোমবাতি এসে আপনার সঙ্গ দিলো। এবং এখন আপনি সাহস ও আলো দুটোই পেলেন। আবার আলো নিভে যাওয়ার আশঙ্কা টাও কেটে গেলো কারণ, যদি একটা নিভেও যায় আরেকটার আলো দিয়ে সেটাকে জ্বালিয়ে নেওয়া যাবে। এবং এতে করে আপনি খুবই সহজে রাস্তা টা পার করে ওপারের রত্নভান্ডারের কাছে পৌছালেন। মোরাল অফ দ্যা স্টোরি- এখানে পথ বলতে বোঝানো হয়েছে আমাদের এই জীবন, অন্ধকার বলতে এই দুনিয়াবি ফিতনা-ফেসাদ, মোমবাতি আপনার আত্মা-নফস, আলো হলো ঈমানী শক্তির আলো, সেই স্বত্তার স্বরন মানে মহান আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া, দেশলাই হল হেদায়েত যার মাধ্যমে ঈমানের আলো জ্বালাতে পারলেন, আর নিভে যাওয়ার ভয় মানে ঈমান হারিয়ে ফেলা, আর আরেকটি পদক্ষেপ হল নিকাহ্ ও আলো হলো আপনার সঙ্গিনীর ঈমান, আর এই ক্ষেত্রে নিভে গেলেও তার সাহায্যে আপনি ঠিক থাকতে পারবেন। সর্বশেষ আপনি ওই রত্নভান্ডার মানে জান্নাতে সুখের দিন কাটাবেন।

Friday, October 5, 2018

ভাবতেই_অবাক_লাগে

যেই মানুষটা রাতে কবরস্থানের পাশ দিয়ে একা হেটে যেতে ভয় পায়, একদিন সেই মানুষটাই সব কিছু ছেড়ে সেই অন্ধকার কবরে একাকী রাতের পর রাত কাটাবে।

একদিন ঠিকই হারিয়ে যেতে হবে সেলাইবিহীন সাদা কাপড়ের আড়ালে। অপেক্ষা শুধু মৃত্যুর।

-তাই কাল লাশ হয়ে অন্যের কাধে যাওয়ার থেকে আজ নিজের পায়ে হেটে মসজিদে যাওয়াটাই উত্তম।